নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নাভি পিল্লাইকে ‘আমেরিকা ও ইজরায়েলবিদ্বেষী’ বলে আক্রমণ করা একটি পোস্ট শুক্রবার রিপোস্ট করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দক্ষিণ আফ্রিকার এই আইনজ্ঞকে শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নোবেল কমিটিকেও নিশানা করা হয়েছে ওই পোস্টে। অভিযোগ, শান্তি প্রতিষ্ঠায় পিল্লাইয়ের কোনও অবদানই নেই।

‘Schoenlaw’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি করা হয়েছিল। সেটিই নিজের অ্যাকাউন্টে পুনরায় শেয়ার করেন ট্রাম্প। পোস্টে দাবি করা হয়েছে, পিল্লাইকে পুরস্কৃত করে নোবেল কমিটি নিজেদের এমন ভাবে কলঙ্কিত করেছে, যা আর মোছার উপায় নেই। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী ও হামাসকে সমর্থন করার অভিযোগও তোলা হয়েছে। গাজায় গণহত্যার অভিযোগ নিয়ে তাঁর নেতৃত্বাধীন তদন্তেরও সমালোচনা করা হয়েছে।

পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘পিল্লাই যে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে ঘৃণা করেন, তা নিয়ে তাঁর কোনও রাখঢাক নেই।’ আরও অভিযোগ, তিনি ‘সন্ত্রাসবাদীদের গুণগান করেছেন এবং হামাসকে পুরস্কৃত করেছেন’। পাশাপাশি, শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দাবি করা হয়েছে, তিনি কখনওই শান্তির প্রসারে কোনও কাজ করেননি।

ট্রাম্পকে নিয়ে পিল্লাইয়ের রসিকতা

ঘটনাচক্রে, নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার খবর ঘোষণার পরেই ট্রাম্পকে নিয়ে রসিকতা করেছিলেন পিল্লাই। জার্মানির নুরেমবার্গে উপস্থিত ৮৫ বছরের এই আইনজ্ঞকে অভিনন্দন জানাচ্ছিলেন অনেকে। সেই সময়ই পুরস্কারটি ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস কালামার এক্সে একটি ভিডিয়ো ভাগ করে নেন। তাতে পিল্লাইকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা আর একটু বেশি হাততালি দিলে আমি হয়তো এই পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নেব।’

ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আগ্রহের কথা বহুবার প্রকাশ্যে এসেছে। তাই পিল্লাইয়ের এই মন্তব্যকে অনেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ঘিরে কৌতুক হিসেবেই দেখেছেন।

পিল্লাইকে ঘিরে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এল, যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং তার ভূমিকা নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। আইসিসির প্রাক্তন বিচারপতি পিল্লাই গাজায় গণহত্যার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে রাষ্ট্রপুঞ্জের একটি কমিশনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং ট্রাম্পের রিপোস্ট ঘিরে তাই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।